মঙ্গলবার ২৬ জানুয়ারী ২০২১ || মাঘ ১৩ ১৪২৭ || ১২ জমাদিউস সানি ১৪৪২

Logo

রাতভর আওয়ামী লীগ নেতাদের বাসায় পুলিশের তাণ্ডব!

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

আপডেট: বুধবার, ১৩ জানুয়ারী, ২০২১

৯০

রাতভর আওয়ামী লীগ নেতাদের বাসায় পুলিশের তাণ্ডব!

যশোর আওয়ামী ও যুবলীগের চার নেতার বাড়িতে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। ওই নেতাদের অভিযোগ, পুলিশের ৪০-৫০ জনের একটি টিম এ ভাঙচুর চালিয়েছেন। অবশ্য পুলিশ বলছে, তারা আসামি ধরতে অভিযানে ছিলো। কিন্তু কোনো নেতার বাড়িতে ভাঙচুরে জড়িত না।

সোমবার (১১ জানুয়ারি) রাতে ‘ইমরান নামে এক পুলিশ সদস্যকে মারপিট ও অপহরণের চেষ্টার অভিযোগে’ যশোর শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হাসান বিপুসহ চারজনকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়। এর পর গভীর রাতে কয়েকটি বাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

আওয়ামী লীগ নেতাদের বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ৪০-৫০ জন পোশাকে থাকা পুলিশ সদস্য উপশহরের যুবলীগ নেতা মুনসুরের বাড়ির সামনে যায়। এরপর তারা ইটের স্তুপ থেকে ইট নিয়ে ছুড়ে মারছে। এরপর ভেঙে দেয়া হয় সিসি ক্যামেরা। একইভাবে পুলিশ সদস্যরা শহরের পোস্ট অফিসপাড়ারা জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল খালেক ও শংকরপুরের জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য কাউন্সিলর গোলাম মোস্তফার বাড়িতে যায় এবং ভাঙচুর চালায়।

যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও পৌরসভার সাত নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর গোলাম মোস্তফা বলেন, রাত একটা ৪০ মিনিটের দিকে চিল্লাচিল্লি শুনে ঘুম থেকে উঠি। জানালা দিয়ে দেখি ৪০-৫০ জন পোশাক পরিহিত পুলিশ। তারা চিল্লাচিল্লি করছে এবং একপর্যায়ে আমার বাড়ির জানালার গ্লাস ভাঙচুর ও গালিগালাজ করে।

তিনি বলেন, কোনো সন্ত্রাসী গ্রুপও এভাবে ভাঙচুর করে না, যেভাবে পুলিশ করেছে। প্রতিবেশিরা বেরিয়ে এলে তাদের তাড়িয়ে দেয়া হয়। শিশুরা যে আতঙ্কিত হয়ে মারা যায়নি, তার জন্য আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি। কোনো সভ্য দেশে এটা সম্ভব না। পুলিশ কোনো অভিযোগ ছাড়াই যদি একজন জনপ্রতিনিধির সাথে এমন আচরণ করতে পারে, তাহলে কোন দেশে বসবাস করছি? এর উপযুক্ত শাস্তি হওয়া উচিত। মানুষের নিরাপত্তাটা কোথায়?

তিনি দাবি করেন, হামলাকারীরা ১০-১২টি গাড়িতে আসছে, তা সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে।

জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও কাউন্সিলর হাজি সুমনের বাবা আব্দুল খালেক বলেন,রা ত দুইটা থেকে আড়াইটার মধ্যে পোশাক পরা একদল পুলিশ আমার বাড়িতে ঢুকে গেট ভাঙচুর করে। সিসিটিভি ক্যামেরা, জানালা, দরজা ভাঙচুর করে। অপরাধ কী, প্রশ্ন করলে গেট খুলতে বলে। এক পর্যায়ে গালিগালাজ করে চলে যায়।

জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মীর জহুরুল ইসলাম বলেন, সোমবার রাতে দুর্ভাগ্যজনকভাবে যশোরের মাটিতে পুলিশ প্রশাসন কর্তৃক যে ঘটনা সংঘঠিত হয়েছে তা নজিরবিহীন। সামরিক স্বৈরাচার সরকার বলেন, বিএনপি-জামায়াত সরকার বলেন, কখনো এমন ঘটনা ঘটেনি।

তিনি বলেন, পুলিশ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার এমপির বাড়ির নিচে প্রেসে হামলা করেছে। আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল খালেক, মোস্তফা, যুবলীগ নেতা মনসুরসহ বিভিন্ন নেতার বাড়িতে হামলা হয়েছে। পুরো শহরজুড়ে ত্রাস সৃষ্টি করেছে পুলিশ। আমরা এর সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমাদের আহ্বান রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের বাড়িতে এ ধরনের হামলার বিচার করা হোক।

তবে পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন বলছেন, আওয়ামী লীগের কিছু লোক পুলিশ সদস্যকে মারপিট করে আইন ভঙ্গ করেছে। ওই ঘটনায় জড়িতদের ধরতে রাতে পুলিশ অভিযান চালিয়েছে। তবে আওয়ামী লীগ নেতাদের বাড়িতে ভাঙচুরের অভিযোগ ভিত্তিহীন। এর সাথে পুলিশ জড়িত নয়। সব পলিটিকস।

তিনি বলেন, সিসিটিভি ফুটেজে পুলিশ সদস্যদের টহল দিতে দেখা গেছে, ভাঙচুর করতে নয়। তারপরও বিষয়টি তদন্ত করতে একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি গঠন করে দেয়া হয়েছে।

ফেসবুকে ফলো করুন