বৃহস্পতিবার ২১ জানুয়ারী ২০২১ || মাঘ ৮ ১৪২৭ || ৭ জমাদিউস সানি ১৪৪২

Logo

চাল নিয়ে কারসাজি

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

আপডেট: মঙ্গলবার, ৫ জানুয়ারী, ২০২১

৮৩

চাল নিয়ে কারসাজি

চাল নিয়ে কারসাজিতে ক্রমেই অস্থির হয়ে উঠছে বাজার। কারণ গত এক সপ্তাহ ধরে ৪৮ থেকে ৫০ টাকা দরের চাল ৫৫ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর সরু চাল সর্বোচ্চ ৭০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে। এমন অস্বাভাবিক দামে সাধারণ ক্রেতাসহ স্বল্প আয়ের খেটে খাওয়া মানুষদের নাভিশ্বাস উঠেছে।

শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংকের পরিচালক পর্ষদের ৩১২তম সভা অনুষ্ঠিত
শুধু চাল নয়। এর সাথে অন্যান্য নিত্যপণ্যের দামও চড়া। ফলে সাধারণ মানুষ অনেক বেশি অসহায় হয়ে পড়েছে। কারণ এমনিতেই করোনাকালে মানুষের আয় কমেছে। এরমধ্যে নিত্যপণ্যের চড়া দামের কারণে খেটে খাওয়া মানুষেরা বাজারে আসতেও ভয় পাচ্ছে।

নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির প্রসঙ্গে কারওয়ান বাজারে মো. মোতালিব নামে এক রিকশাচালকের সঙ্গে কথা হয় বাংলাদেশ জার্নালের। তিনি বলেন, ‘রিকশা চালিয়ে যে টাকা রোজগার করি তা যদি চাল, ডাল, আলু ও পেঁয়াজ কিনতেই শেষ হয় তাহলে জীবন কাটবে কীভাবে? অনেক কষ্টে আছে রে ভাই।’

এদিকে ভারত থেকে চালের আমদানিতে শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্তে দিনাজপুরে হঠাৎ ধানের দাম কমতে শুরু করেছে। বাজারে বস্তা প্রতি ধানের দাম কমেছে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত। তবে কমেনি চালের দাম।

চালের দাম বাড়ার বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, ‘চালের দাম বাড়ার অন্যতম কারণ হলো সরকারের কাছে এখন যথেষ্ট স্টক নেই। সে জন্য সরকার চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং ইতোমধ্যে ৫০ হাজার মেট্রিক টন করে চাল আমদানির তিনটি এলসি ওপেন করেছে খাদ্য মন্ত্রণালয়। আরো দুটি এলসি খোলা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘দ্বিতীয়ত, বেসরকারি খাতেও চাল আমদানির সুযোগ দেয়া হয়েছে। সাশ্রয়ী মূল্য রাখতে ৬২ শতাংশ যে ট্যাক্স ছিলো, সেটা কমিয়ে ২৫ শতাংশে নিয়ে আসা হয়েছে। নতুন যারা ব্যবসায়ী তাদের লাইসেন্স না থাকলে একদিনের মধ্যে তাদের লাইসেন্স দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।’

অন্যদিকে নতুন বছরের শুরুতেই মুরগি, এলাচ, মসুর ডাল, জিরা, আদা, দারুচিনি, দেশি এবং আমদানি দুই ধরণের পণ্যের দাম বেড়েছে। তবে কমেছে পেঁয়াজ, আলু ও ডিমের দাম।

এ বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, ‘আমদানি-নির্ভর নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ে কারসাজি কিংবা সুযোগ নিয়ে অতিরিক্ত মুনাফা করা হলে সেসব অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। ভোজ্য তেল একটি আমদানি নির্ভর পণ্য। আন্তর্জাতিক বাজারে এর দামটা বেড়ে গেছে। সেজন্যই এর সাময়িক প্রভাব আমাদের দেশে পড়েছে। তবে অসৎ উপায়ে যাতে পণ্যের মূল্য কেউ বাড়াতে না পারে। সুযোগ নিয়ে কেউ যেন এক্সট্রা বেনিফিট নিতে না পারে সে বিষয়ে সরকার সজাগ রয়েছে।’

বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘সবসময়ই কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সুযোগ নেয়ার চেষ্টা করেন। আমরা চেষ্টা করব আন্তর্জাতিক বাজারে যে দামটা বেড়েছে, আমাদের দেশে যেটা বাড়বে সেটা যেন সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। সে লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্য তেলের দাম কী পরিমাণ বাড়ছে এবং দেশের বাজারে কী পরিমাণ বাড়ছে সেটি মনিটরিং করা হচ্ছে।’

ফেসবুকে ফলো করুন