বৃহস্পতিবার ২৮ জানুয়ারী ২০২১ || মাঘ ১৫ ১৪২৭ || ১৪ জমাদিউস সানি ১৪৪২

Logo

তথ্য যাচাইয়ের সুযোগ না থাকায় সোশ্যাল মিডিয়া অপব্যবহারের আশঙ্কা

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

আপডেট: শুক্রবার, ১ জানুয়ারী, ২০২১

১৭০

তথ্য যাচাইয়ের সুযোগ না থাকায় সোশ্যাল মিডিয়া অপব্যবহারের আশঙ্কা

‘জুম প্রযুক্তি ও আমাদের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক এক আলোচনায় উত্তর আমেরিকার বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, প্রথাগত মিডিয়ায় তথ্য প্রকাশের নিয়ন্ত্রণ বা সীমাবদ্ধতা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে জনপ্রিয় করে তুলছে। কিন্তু সেখানে যাচাই বাছাইহীন তথ্য প্রচারের সুযোগে মিডিয়ার অপব্যবহারের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, কোভিড পরিস্থিতিতে নানা ধরনের প্রযুক্তির সহজলভ্যতায় তৈরি হওয়া পরিস্থিতিতে প্রাতিষ্ঠানিক মিডিয়া এবং গণযোগাযোগের মাধ্যমগুলোকে বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তনের কথা ভাবতে হবে।

কানাডার একটি বাংলা পত্রিকার প্রধান সম্পাদক শওগাত আলী সাগরের সঞ্চালনায় সম্প্রচারিত ‘শওগাত আলী সাগর লাইভে’ আলোচনায় তারা এই মতামত দেন। স্থানীয় সময় বুধবার রাতে টরন্টো থেকে এই অনুষ্ঠানটি প্রচারিত হয়।

আলোচনায় আংশ নেন ঢাকার নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজী সাহিত্যের অধ্যাপক ড. শিরিন হক, সাউথ ক্যারোলিনা স্টেট ইউনিভার্সিটির সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. শফিকুর রহমান এবং দ্য ইউনিভার্সিটি অব সেন্ট্রাল ফ্লোরিডা কলেজ অব মেডিসিনের অধ্যাপক ড. সেজান মাহমুদ।

ড. শিরিন হক তার আলোচনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রসারকে ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, কোভিড যখন সবাইকে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে, ঠিক সেই সময় জুমসহ অন্যান্য প্রযুক্তি মানুষকে নিবিড়ভাবে যুক্ত হতে সহায়তা করেছে।

এই প্রযুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশসহ বিভিন্নস্থানে মহামারিতে দুর্ভোগের শিকার অসহায় দরিদ্র জনগোষ্ঠীর খাবার দাবারসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা সংগ্রহ পৌঁছে দেয়ার উদ্যোগ সফল হয়েছে।

ড. শিরিন হক বলেন, প্রথাগত মিডিয়া তাদের পছন্দের বাইরে অন্য মানুষের বক্তব্যকে প্রচারের তেমন একটা সুযোগ দেয় না। সেখানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম শত মানুষের কথা বলার এবং তাদের কণ্ঠস্বর শোনার সুযোগ করে দিয়েছে।

তিনি এটিকে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় হিসেবে উল্লেখ করে সোশ্যাল মিডিয়াসহ প্রযুক্তির বিকাশকে প্রাতিষ্ঠানিক মিডিয়ার সংস্কারের জন্য একটি ‘ওয়েক আপ কল’ হিসেবে অভিহিত করেন।

ড. শিরিন হক বলেন, মিডিয়া সেটি প্রাতিষ্ঠানিক বা সামাজিক যেটিই হোক না কেন তাকে যাচাই-বাছাই করে সঠিক তথ্যটাই নাগরিকদের কাছে উপস্থাপন করতে হবে। যাচাইবাছাইহীন তথ্য কোভিডকালে মানুষরে মধ্যে সংশয় এবং আতংক তৈরি করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ড. শফিকুর রহমান বলেন, বিশ্বের অনেক দেশেই পাঠক প্রাতিষ্ঠানিক মিডিয়ার বাইরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের দিকে ঝুঁকে পড়ছে। এমনকি প্রাতিষ্ঠানিক মিডিয়াও তাদের প্রকাশিত-প্রচারিত খবর পাঠকের কাছে পৌঁছে দিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্লাটফরম ব্যবহার করছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে প্রযুক্তির সহজলভ্যতা প্রাতিষ্ঠানিক মিডিয়া এবং গণযোগাযোগের মাধ্যমের কাঠামোতে বড় ধরনের সংস্কারের তাগিদ দিচ্ছে। বিশ্বের সব দেশেই মিডিয়া একটি ব্যবসা এবং বড় বড় সব মিডিয়ার মালিকানাও ব্যবসায়ীদের হাতে। গাড়ি কোম্পানির পাবলিক সার্ভিস আর হাসপাতালের পাবলিক সার্ভিসের তফাৎটা বোঝা মিডিয়ার জন্য জরুরি। কেননা মিডিয়কে সমাজে হাসপাতালের ভূমিকা পালন করতে হয়।

ড. সেজান মাহমুদ বলেন, কোভিডের সময়ে অনেক চিকিৎসকই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোভিডের চিকিৎসার নামে নানা ধরনের ওষুধের প্রচার করেছেন। মানুষ সেগুলো ব্যবহারও করেছে। এর বিরূপ প্রতিক্রিয়া আমরা দেখব আরো চার পাঁচ বছর পর।

তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে অখ্যাত কোনো শিল্পী বা লেখক বিখ্যাত হয়ে গেলে সেটি অবশ্যই ইতিবাচক ব্যাপার। কিন্তু চিকিৎসা বা ওষুধের মতো বিষয়ে এই যাচাই বাছাইহীন তথ্যের প্রচার মানুষকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেবে।

তিনি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তথ্য প্রচারের ক্ষেত্রে তার সঠিকতা এবং গুণগত মান যাচাই বাছাইর ব্যবস্থা থাকা দরকার।

শওগাত আলী সাগর তার সূচনা বক্তব্যে প্রাতিষ্ঠানিক মিডিয়াকেই এখন পর্যন্ত তথ্য প্রবাহের নিয়ন্ত্রক হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগের মাধমের বিকাশের যুগে তার নেতৃত্ব অক্ষু্ণ্ন রাখতে পেশাদারিত্ব বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

ফেসবুকে ফলো করুন