• শনিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২১, ০৬:০৮ অপরাহ্ন
  • English English

এতিম প্রতিবন্ধী তরুণীর ১০ বছর ধরে টংঘরে বসবাস!

প্রতিবেদকের নাম / ২১ শেয়ার
প্রকাশিত : শুক্রবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২১

মা-বাবার কোলজুড়ে ২৮ বছর আগে জন্ম নেওয়া মেরিনা খাতুনের শৈশব কেটেছে অনেকটা আনন্দে। তবে কিশোরী বয়সে মা-বাবাকে হারিয়ে শারীরিক ও বাকপ্রতিবন্ধী এই তরুণীকে ছাড়তে হয়েছে ঘর-বাড়ি। সৎমায়ের অবহেলা আর বঞ্চনা সইতে না পেরে একসময় তার আশ্রয় হয় খালার বাড়িতে। সেই থেকে ১০ বছর ধরে খালার বাড়ির উঠানের টংয়ের নিচেই বসবাস প্রতিবন্ধী মেরিনা খাতুনের।

ঝড় কিংবা রোদ― সবই মাথার ওপর দিয়ে যাচ্ছে তার। কনকনে ঠান্ডার সময়টাও পার করতে হচ্ছে টংয়ের নিচে থেকে। শারীরিক ও বাকপ্রতিবন্ধী হওয়ায় বিয়ের পিঁড়িতে বসার সৌভাগ্য হয়নি মেরিনার। আর যে খালা টংয়ের নিচে ঠাঁই দিয়েছেন, তারাও সচ্ছল পরিবার নয়।

খালাতো এক ভাই রিকশাভ্যান চালান। দিনরোজগারে এমনিতেই অভাবের সংসার। তবু দুবেলা-দুমুঠো অন্ন তুলে দিচ্ছেন প্রতিবন্ধী খালাতো বোনের মুখে। মেরিনা দুই পায়ে হাঁটাচলা বা কথা বলতে অক্ষম। তার খালা আর খালাতো ভাইয়ের দয়ায় টিকে আছেন এখানে।

সরেজমিন গাইবান্ধার পলাশবাড়ি উপজেলার মন্দুয়ার গ্রামে দেখা মেলে মেরিনা খাতুনের। খালার বাড়ির উঠানে পুরোনো কাপড়ে ঘেরা টংয়ের নিচে কোনোমতে শুয়ে আছেন তিনি। খালা ছালেহা বেগম মেরিনার দেখাশোনা করছেন। নিজের সন্তানের মতো করে আহার তুলে দেন মুখে।

খালা ছালেহা বেগম বলেন, ১০ বছর ধরে টংঘরে বসবাস করে আসছে মেরিনা। আমার নিজের সংসার চলে কোনোমতে টেনেটুনে। একটা ঘরের এক পাশে ছেলে থাকে, অন্য পাশে আমি। বাড়তি ঘর না থাকায় কষ্ট করে টংয়ের নিচেই থাকতে হচ্ছে মেরিনাকে। এতে নিজের খারাপ লাগলেও কোনো উপায় নেই।

পৃথিবীতে আপন বলতে কেউ নেই মেরিনার। মা-বাবা, দাদা-দাদি সবাই মারা গেছেন। নিজের এক বোন ঢাকায় থাকলেও কোনো দিনও খোঁজ করতে আসেননি। গত ১০ বছরে প্রতিবন্ধী ভাতা ছাড়া অন্য কোনো সাহায্য-সহযোগিতা জোটেনি মেরিনার কপালে। তিনি সরকার, জনপ্রতিনিধিসহ সমাজের বিত্তবানদেন কাছে মেরিনাকে মানবিকভাবে বাঁচার জন্য একটি ঘর ও হুইলচেয়ারের আকুতি করেন।

মেরিনার খালাতো ভাই সাদেকুল ইসলাম বলেন, এতিম ও প্রতিবন্ধী মেরিনার কোনো আপনজন বেঁচে নেই। নিজেদের সামর্থ্য না থাকায় বাধ্য হয়েই তাকে রাখতে হয়েছে টংয়ের নিচে। প্রচণ্ড শীতের রাতগুলো কাটিয়েছেন তিনি টংয়ের নিচে থেকে। তার দাবি, সরকারি একটি ঘর পেলে অন্তত ভালোভাবে থাকতে পারতেন মেরিনা।

স্থানীয় এলাকাবাসীরা জানান, আট-দশ বছর থেকে দেখে আসছি মেরিনা খালার বাড়ির টংয়ের নিচে থাকে। তার খালা ছালেহা তার খোঁজখবর নেয়। খালার সংসারে অভাব থাকলেও যা জোটে, তা তুলে দেন মেরিনার মুখে। একটা ঘরের ব্যবস্থা হলে অন্তত টংঘরে থাকা থেকে মুক্তি পেত মেরিনা। তারা মেরিনার জন্য সরকারি একটা ঘরের ব্যাপারে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেন।

পলাশবাড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান মোকছেদ চৌধুরী বিদ্যুৎ এই প্রতিবেদকের কাছ থেকে প্রতিবন্ধী মেরিনা খাতুনের অসহায়ত্ব ও টংয়ের নিচে বসবাসের কথা শুনে বলেন, দ্রুত মেরিনার জন্য একটি সরকারি ঘর দেওয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেব। নিজের জমি না থাকলে প্রয়োজনে অন্যজনের কাছ থেকে ১ শতাংশ জমি নিয়ে ঘর করে দেব।


এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ