• বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২০, ০৯:৩৭ পূর্বাহ্ন
  • English English

রিফাত হত্যায় মিন্নিসহ ৬ জনের মৃত্যুদণ্ড

প্রতিবেদকের নাম / ১৫ শেয়ার
প্রকাশিত : বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২০

বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় মিন্নিসহ ৬ জনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত।

আজ বুধবার বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক আসাদুজ্জামানের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- রাকিবুল হাসান রিফাত ফরাজী, আল কাইউম ওরফে রাব্বি আকন, মোহাইমিনুল ইসলাম সিফাত, রেজওয়ান আলী খান হৃদয়, মোঃ হাসান এবং আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি।

খালাসপ্রাপ্তরা হলেন- মো. মুসা (২২), রাফিউল ইসলাম রাব্বি (২০), মো. সাগর (১৯) ও কামরুল হাসান সায়মুন (২১)।

সকালে ‌ক‌ঠোর নিরাপত্তার মধ্য দি‌য়ে বেলা ১১টা ৪০ মি‌নি‌টে কারাগার ‌থে‌কে আসামি‌দের আদাল‌তে আনা হয়। দুপুর ১টা ২০ মিনিটে বরগুনা জেলা দায়রা জজ আদালতের বিচারক এ রায় ঘোষণা শুরু করেন। এ সময় জামিনে থাকা আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি ও কারাগারে থাকা ৮ আসামি উপস্থিত ছিলেন।

একবছর তিনমাস তিনদিনের মধ্যে এ হত্যা মামলার রায় এদিন ধার্য করে আদালত।

২০১৯ সালের ২৬ জুন সকালে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে কিশোর গ্যাং বন্ড বাহিনী কুপিয়ে হত্যা করে রিফাত শরীফকে। মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষে ৩০ সেপ্টেম্বর রায়ের তারিখ নির্ধারণ করে আদালত।

গতবছর ২৬ জুন সকালটি অন্যান্য দিনের সকালের মতোই শুরু হয়েছিল। কিন্তু বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে একটি হত্যাকান্ড সারাদেশেকে নাড়িয়ে দিয়েছিলো। কিশোর গ্যাং বন্ড বাহিনী প্রকাশ্যে রিফাত শরীফকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেলেই বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন রিফাত শরীফ। ঘটনার পরদিন ২৭ জুন রিফাতের বাবা মো. আবদুল হালিম দুলাল শরীফ বাদী হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ৫-৬ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

রিফাতের ওপর হামলার ছয়দিন পর ২ জুলাই ভোর রাতে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয় এ মামলার আলোচিত প্রধান আসামি সাব্বির আহমেদ নয়ন ওরফে নয়ন বন্ড। মামলা তদন্তের এক পর্যায়ে তদন্ত কর্মকর্তা বরগুনা সদর থানার ওসি (তদন্ত) মো: হুমায়ুন কবির মামলার প্রধান আসামি নয়ন বন্ডের সাথে সাক্ষী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নির সম্পর্ক ও হত্যা পরিকল্পনার সাথে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়ায় মিন্নিকে এই মামলায় আসামি করা হয়। রিফাত হত্যাকাণ্ডের ২০ দিন পর ২০১৯ সালের ১৬ জুলাই আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। প্রধান সাক্ষী থেকে মিন্নি আসামি হয়ে যাওয়ায় মামলাটি মোড় নেয় অন্যদিকে।

রিফাত হত্যাকান্ডের দুই মাস ছয়দিন পর গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর বিকেলে বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ২৪ জনকে অভিযুক্ত করে প্রাপ্তবয়স্ক এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক দুই ভাগে বিভক্ত করে দুটি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে পুলিশ। এদের মধ্যে ১০ জন প্রাপ্তবয়স্ক আসামি এবং ১৪ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক। প্রাপ্ত বয়স্ক আসামীদের বিচারিক কার্যক্রম শুরুর জন্য ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ আদালত চার্জ গঠন করেন। তবে মামলার অন্যতম আসামী মুসা বন্ডকে এখনো ধরতে পারেনি পুলিশ।

এরপর গত ৮ জানুয়ারি থেকে প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামি রাকিবুল হাসান রিফাত ফরাজী, আল কাইউম ওরফে রাব্বি আকন, মোহাইমিনুল ইসলাম সিফাত, রেজওয়ান আলী খান হৃদয়, মোঃ হাসান, মোঃ মুসা, আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি, রাফিউল ইসলাম রাব্বি, মোঃ সাগর এবং কামরুল ইসলাম সাইমুন এর বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু করে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি এ মামলার ৭৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্নের মধ্য দিয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন করে আদালত।


এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ

পুরাতন সব সংবাদ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১